
দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় অনলাইন নিউজপোর্টাল সারাবাংলা ডটনেট এখন জামায়াত ইসলামীর দখলে। গত জুলাই মাসের ( জুলাই ২৬ ) প্রথম সপ্তাহে অত্যন্ত কৌশলে পত্রিকাটি নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে জামায়াত ইসলামী। এই নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা করেছেন আইসিসি কমিউনিকেশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পত্রিকাটির মালিক সাইফুল ইসলাম সিদ্দিক। এখন কেউ কাজ জানুক আর নাই জানুক জামায়াত শিবিরপন্থী সাংবাদিক হলেই সারাবাংলা যোগদান করা যাচ্ছে। গত জুলাই মাসে সারাবাংলার মাল্টিমিডিয়া এবং ইংলিশ সংস্কণে ১০ জন চিহ্নিত জামায়াত শিবিরপন্থী সাংবাদিক নিয়োগ দিয়ে পুরো প্রতিষ্ঠানটি জামায়াতের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
একই সময়ে বিএনপি ঘরানার সাংবাদিকদেরকে বের করে দেওয়ার পাঁয়তারা করছে। অথচ গত প্রায় দুই বছর ধরে স্বল্প জনবল দিয়ে হেড অব নিউজ গোলাম সামদানীর নেতৃত্বে অত্যন্ত দক্ষতা ও সুনামের সহিত প্রতিষ্ঠানটি চলছিল। জানা গেছে, দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী গাজী গ্রুপের মালিকানাধীন ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে সারাবাংলা ডটনেট ও দৈনিক সারাবাংলা যাত্রা শুরু করে। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের কারণে আর্থিক সংকটে পরে গাজীগ্রুপ। তখন আর্থিক সংকটের কারণে চালাতে না পারায় গাজীগ্রুপ নামমাত্র মূল্যে সারাবাংলা বিক্রি করে দেয়। তখন প্রতিষ্ঠানটি কিনে নেন আইটি ব্যবসায়ী ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) সিনিয়র সহসভাপতি সাইফুল ইসলাম সিদ্দিক। তিনি পত্রিকাটি মালিকানা কিনে নেওয়ার পর সারাবাংলার তৎকালীন স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট গোলাম সামদানী ভূঁইয়া কে হেড অব নিউজের দায়িত্ব দেন। উল্লেখ গোলাম সামদানী, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে ভয়েস অফ আমেরিকায় কাজ করেছেন।
এ সময় তিনি সরকারের গুম খুন, ক্রসফায়ার, মিথ্যা হয়রানি ও গায়েবানা মামলা নিয়ে ভয়েস অফ আমেরিকায় অনেক প্রতিবেদন করেছে। এছাড়াও ২০২৩/২০২৪ সালে গোলাম সামদানী বিএনপি‘‘র মিডিয়া সেলেও কিছুৃদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। গোলাম সামদানী হেড অব নিউজের দায়িত্ব নেওয়ার পর সারাবাংলার মালিকানা বদল সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। সেজন্য এসবি, এনএসআই সহ বিভিন্ন সংস্থার ক্লিয়ারেন্স সম্পন্ন করে সম্পাদক ও প্রকাশক বদল, নতুন করে নিবন্ধন নবায়ন, সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে সাইফুল ইসলাম সিদ্দিকীর নাম অন্তর্ভুক্তিকরণ, সারাবাংলা ডটনেটের জন্য প্রথমবারের মতো ৬টি press accreditation card করে দেয়াসহ যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করেন। গত দুই বছর গোলাম সামদানী অন্তর্বর্তীকালীন ও বিএনপি সরকারের আমলে নানা ধরনের তদবির করে তিনি অনেকটা এককভাবে করে এসব আইনি জটিলতা মুক্ত করে সারাবাংলাকে সাইফুল ইসলাম সিদ্দিকীর হাতে তুলে দেন দেন।
এরমধ্যে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে দৈনিক সারাবাংলার, সম্পাদক ও প্রকাশক বদল সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করা হয়। আর ২০২৬ সালের এপ্রিলে সারাবাংলার ডটনেটের মালিকানা বদল সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে সাইফুল ইসলাম সিদ্দিকী নাম অন্তর্ভুক্তকরন সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করা হয়। দৈনিক সারাবাংলা ও সারাবাংলা ডটনেটের মালিকানা সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর ২০২৬ সালের মে মাস থেকে মালিক সাইফুল ইসলাম সিদ্দিক, হেড অব নিউজ গোলাম সামদানীর সাথে দৃরত্ব বাড়িয়ে প্রতিষ্ঠানে আগে থেকে থাকা ২/৩ জন শিবিরপন্থী সাংবাদিকদের কাছে টেনে নিতে শুরু করেন।
এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের জুলাই মাসে ইংরেজি সংস্করণ চালু করার নামে একঝাঁক জামায়াত শিবির সাংবাদিক নিয়োগ দেন। এদের মধ্যে রয়েছে সাংবাদিক কমিউনিটিতে চিহ্নিত জামাতপন্থী সাংবাদিক শাহিন হাসনাত, যিনি দিগন্ত টিভি বন্ধ হওয়ার পর গত ১৪ বছর বেকার ছিলেন। এ সময়ে তিনি জামায়াতপন্থী সাংবাদিকদের মধ্যে লিয়াজো মেইনটেন করার দায়িত্ব পালন করতেন। হঠাও করেই মালিক শাহীন হাসনাতকে সারাবাংলা ডিরেক্টর মিডিয়া হিসেবে নিয়োগ দেন। এছাড়াও এক সময় ফ্রিডম পার্টি করা বর্তমানে জামায়াত শিবিরের অন্যতম কুশীলব আবুল কালাম মানিক কে সারাবালার ইংরেজি সংস্করণের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
যিনি এর আগে বাসস এ নিউজ এডিটর হিসেবে দায়িত্ব থাকাকালীন সকাল বিকাল বিএনপিকে ধরে ধরে গালাগালি করতেন। আর সৈয়দ আলী আসফারকে সারাবাংলার ইংরেজি সংস্করণের উপপ্রধান দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, তিনিও জামায়াতপন্থী সাংবাদিক। আরেক চিহ্নিত জামায়াতপন্থী সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম আজাদ। যিনি ডিআরইউ থেকে জামায়াত শিবির প্যানেলের সভাপতি ছিলেন। তাকে ইংরেজি সংস্করণের সিটি এডিটর পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে, বার্তা সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে মেহেদী হাসান তিনিও জামায়াত ঘরানার সাংবাদিক। অন্যদিকে গফুর অরণ্য নামের সাবেক ছাত্র শিবির নেতাকে সারাবালার ভিজ্যুয়ালের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সে জামায়াত ইসলামীর বিভিন্ন ফেইসবুক পেইজ পরিচালনা করতো। এখানে আসার আগে জামায়াত শিবিরের অনলাইন আরটিএনএন কাজ করতো। তার আগে RTv তে স্পোর্টসের ডেস্কে কাজ করতো।
ভিজ্যুয়াল সম্পর্কে তার কোন ধারণা না থাকলেও জামায়াত নেতা শাহীন হাসনাতের হাত ধরে তাকে ভিজ্যুয়ালের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এই শিবির নেতা ভিজ্যুয়ালের দায়িত্ব নেয়ার পর, শাহীন হাসনাতের সহায়তায় Rtnn ও দৈনিক বঙ্গজননী নামের অখ্যাত অনলাইন থেকে ৬/৭ জন সাবেক শিবির নেতাকে মোজো রিপোর্টার ও ভিজ্যুয়াল টিমে বিভিন্ন পদে নিয়োগ দিয়েছেন গত জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে । এছাড়াও সাইফুল ইসলাম সিদ্দিকীর DG Bangla নামে একটা একটা অনলাইন আছে, যেটা আইটি রিলেটেড নিউজ করা হয়। যার নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছে জামায়াতের আরেক সাংবাদিক এমদাদুল হক এমদাদ।
এই এমদাদ আবার শাহিন হাসনাতের আপন ভাগিনা। এমদাদের সাংবাদিকতার কোন যোগ্যতাই নেই, কোনদিন ভালো কোন প্রতিষ্ঠানে সাংবাদিকতা করেও নাই। গত তিন বছর ধরে ডিজি বাংলা কাজ করা অবস্থায় অন্য একটা ভুয়া অনলাইনের নাম ব্যবহার করে জামায়াতের কোটায় DRU এর সদস্যপদ নিয়েছে। ডিআরইউ কর্তৃপক্ষ খবর অনুসন্ধান করলেও বিষয়টি বুঝতে পারবে, যে এমদাদ যে প্রতিষ্ঠানে নামে ডিআরইউ মেম্বারশিপের জন্য আবেদন করে মেম্বারশিপ পেয়েছেন, এমদাদ সেই প্রতিষ্ঠানে কখনো ছিল না বরং সে তখন ডিজি বাংলায় কাজ করতো, এখনও করছে।
অন্যদিকে ডিবিজি বাংলার দায়িত্ব ছিলেন বদরুদ্দোজা মাহমুদ তুহিন। এই বদরুদ্দোজা মাহমুদ তুহিনই ডিবিজি বাংলার সকল কাজ সম্পন্ন করার পর তাকে সহযোগিতা করার জন্য এমদাদকে নিয়োগ দিয়েছিলেন। পরে সে এমদাদ মালিক সাইফুল ইসলাম সিদ্দিকীর সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে বদরুদ্দোজা মাহমুদ তুহিনকে ডিবিজি বাংলা থেকে বের করে দেয়। বদরুদ্দোজা মাহমুদ তুহিনকে বের করে দিয়ে এমদাদকে নিয়ে মালিক তার প্রতিষ্ঠানে জামাত শিবির পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার শুরু করেন।
দৈনিক সারাবাংলা ও সারাবাংলা ডটনেট-এর ক্ষেত্রেও সাইফুল ইসলাম সিদ্দিক একই কাজ করেছেন। অর্থাৎ গোলাম সামদানীকে দিয়ে দৈনিক সারাবাংলা ও সারাবাংলা ডটনেটের সকল আইনি জটিলতা দূর করে গোলাম সামদানীসহ বিএনপিপন্থী সাংবাদিকদেরকে এখন কোণঠাসা করে দেওয়ার পায়তারা করছেন। অথচ বিএনপি ঘরানার সাংবাদিক গোলাম সামদানী গত দুই বছরে সারাবাংলার সকল মালিকানা বদলসহ সকল আইনি জটিলতা দূর করে পত্রিকাটি মালিকের হাতে তুলে দিয়েছেন। বিএনপি ঘরানার সাংবাদিক দিয়ে সকল কাজ সম্পন্ন করার পর, মালিক সাইফুল ইসলাম সিদ্দিক এখন জামায়াতের লোকজন দিয়ে সারাবাংলা পরিচালনা করছেন।
