খেলাধুলা ডেস্কঃ নিউইয়র্কে ম্যারাথনে দৌড়ানোর সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন ২৪ বছর বয়সী এক তরুণী। এরপর চিকিৎসক ও দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজক কর্মীদের প্রচেষ্টার পরও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এই তরুণী এক সময় ফিল্ড হকি খেলোয়াড় ছিলেন।
স্থানীয় সময় রবিবার (১ নভেম্বর) নিউইয়র্ক সিটির সেন্ট্রাল পার্কে ফিনিশ লাইন থেকে প্রায় দুই মাইল দূরে র্যাচেল আপা নামে ওই ক্রীড়াবিদ হঠাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সেখানে উপস্থিত হাসপাতালের সমাজকর্মী মাইকেলা নিকোলাস দ্রুত সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেন, কিন্তু তিনি র্যাচেলের কোনো নাড়ির স্পন্দন পাননি।
ম্যারাথনের মেডিকেল টিম ডিফিব্রিলেটর নিয়ে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত, দর্শকদের মধ্যে থাকা দুজন চিকিৎসক পালাক্রমে তাকে সিপিআর দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে র্যাচেলকে মাউন্ট সিনাই মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসকরা ছয় ঘণ্টা ধরে তাকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালান। তার বাবা স্টিভ আপা ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’-কে জানান, রাত ৯টা ৪০ মিনিটে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি আরও জানান, চিকিৎসকদের মতে তার মৃত্যুর কারণ ছিল ‘র্যাবডোমায়োলাইসিস’ নামে একটি বিরল শারীরিক অবস্থা, যেখানে পেশি কলা দ্রুত ভেঙে যায় এবং রক্তপ্রবাহে ক্ষতিকারক উপাদান ছড়িয়ে পড়ে।
স্টিভ বলেন, এটি মেনে নেওয়া অসম্ভব। একদম সুস্থ, সুঠাম দেহের অধিকারী, মাত্র ২৪ বছর বয়স ছিল তার। দৌড় চলাকালীন র্যাচেল যে শারীরিক কষ্টের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন, তার বাবার কাছে পাঠানো শেষ বার্তাগুলোতে তার কিছুটা আভাস পাওয়া যায়। পেনসিলভানিয়ার লুইসবারিতে নিজেদের বাড়িতে বসে দৌড় প্রতিযোগিতা পর্যবেক্ষণ করছিলেন স্টিভ। ১৮তম মাইলে র্যাচেল তাকে একটি টেক্সট মেসেজ পাঠান, যাতে লেখা ছিল, ওহ (ব্যথা বা কষ্টের বহিঃপ্রকাশ)। এক মাইল পর তিনি আরেকটি বার্তা পাঠান, ওহ, ওহ। ২৩তম মাইলে পাঠানো তার সর্বশেষ বার্তায় লেখা ছিল, শেষ ধাপ।
র্যাচেলের মা মিশেল নিউইয়র্কে দৌড় প্রতিযোগিতাটি অনুসরণ করছিলেন। ১৪তম মাইলে তিনি র্যাচেলের হাসিমুখের একটি ভিডিও ধারণ করেছিলেন। সেন্ট্রাল পার্কের দিকে যাওয়ার সময় তিনি লক্ষ্য করেন, ম্যারাথন ট্র্যাকিং অ্যাপে তার মেয়ের অবস্থান ২৪তম মাইলে এসে থেমে গেছে। তিনি যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছান, তখন র্যাচেলকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।
বাকনেল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক র্যাচেল তার দাদার স্মৃতির উদ্দেশ্যে এই ম্যারাথনে অংশ নিয়েছিলেন। তার দাদা ২০২২ সালে পারকিনসন্স রোগে মারা যান। খেলাধুলা ও শারীরিক সক্রিয়তার প্রতি র্যাচেলের ভালোবাসা ছিল, তাতে তার দাদার বড় প্রভাব ছিল। সেই অনুপ্রেরণা থেকেই তিনি ‘পারকিনসন্স ফাউন্ডেশন চ্যাম্পিয়ন্স’ কর্মসূচির জন্য তহবিল সংগ্রহ করছিলেন।
তিনি একটি ইলেকট্রিক্যাল কম্পোনেন্ট কোম্পানিতে প্রোডাক্ট ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং একই সঙ্গে চার্লসটন সাউদার্ন ইউনিভার্সিটিতে এমবিএ করছিলেন। দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজক সংস্থা ‘নিউ ইয়র্ক রোড রানার্স’ জানিয়েছে, ম্যারাথনের ইতিহাসে র্যাচেলই প্রথম অংশগ্রহণকারী, যিনি এই প্রতিযোগিতার সময় মৃত্যুবরণ করলেন।
<p style="text-align: center;">প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ শিহাব উদ্দিন</p><p style="text-align: center;">ফোন নাম্বারঃ 01711475448</p><p style="text-align: center;">জিমেইলঃ Dainikbanglasomoy@gmail.com</p><p style="text-align: center; ">সম্পাদকীয়ঃ ৫১৬/2 ইসিবি চত্বর, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট। ঢাকা ১২০৬</p>
Copyright © 2025 All rights reserved