১৩২ মেগাওয়াটের ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা
সমীক্ষায় সরকারি ৩১টি বিশ্ববিদ্যালয় (৫২.৫০ মেগাওয়াট-পিক), ১৫০টি কলেজ (৫১.১২ মেগাওয়াট-পিক), রাজশাহী সিটি করপোরেশন (২৪.৬০ মেগাওয়াট-পিক) ও শৈলকুপা পৌরসভায় (৪.০৬ মেগাওয়াট-পিক) মিলিয়ে মোট ১৩২.২৮ মেগাওয়াট-পিক ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সুনির্দিষ্ট সম্ভাবনার তথ্য তুলে ধরা হয়। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারলে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে জানানো হয়।
বিদ্যুৎ ব্যবহার দিয়ে দারিদ্র্য শনাক্তের অভিনব প্রস্তাব
ক্যাব তাদের মূল প্রবন্ধে পরিবারভিত্তিক বিদ্যুৎ ব্যবহারের ডাটা বিশ্লেষণ করে সরকারি অতিরিক্ত ব্যয় সাশ্রয়ের মাধ্যমে দরিদ্র পরিবার শনাক্তকরণের একটি ১২ দফা কর্মপরিকল্পনা পেশ করে। সংগঠনটির দাবি, এ পদ্ধতি কার্যকর করা গেলে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ২,৬৯৯ কোটি টাকা এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের ২১৬ কোটি টাকার মতো পৃথক প্রকল্প ব্যয় বাঁচানো সম্ভব।
তবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত আলোচকরা সতর্ক করে বলেন, দুর্গম ও চরাঞ্চলের অনেক মানুষ এখনো বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে এবং অনেক দরিদ্র পরিবার যৌথভাবে মিটার ব্যবহার করায় কেবল বিদ্যুতের ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে দারিদ্র্য নিরূপণ করলে ভুল হওয়ার ঝুঁকি থাকবে।
বিশেষজ্ঞ ও বিশিষ্টজনদের বক্তব্য
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বিদ্যুৎ খাতে বিগত সরকারের দায়মুক্তি আইনের কঠোর সমালোচনা করে প্রতিটি খাতে জবাবদিহি নিশ্চিতের তাগিদ দেন। তিনি বিকল্প জ্বালানির উৎস জোরদার ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর গুরুত্ব দেন।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির নবায়নেযোগ্য জ্বালানি প্রসারে সরকারের কার্যকরী নীতি ও প্রণোদনা দাবি করেন। স্ট্যামফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষক শিহাব উদ্দিন সৌরবিদ্যুৎ বাস্তবায়নে বিনিয়োগের নিরাপত্তা ও দক্ষ জনবল তৈরির তাগিদ দেন।
গণসংলাপে ক্যাব লাইফলাইন গ্রাহকদের সহায়তা পুনর্মূল্যায়ন, বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি এবং ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণসহ প্রধান ৩টি সুপারিশ সরকারের কাছে হস্তান্তর করে। ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনটির জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম।
ডেস্ক নিউজ : বিদ্যুৎ ব্যবহারের ফলে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমানের ইতিবাচক পরিবর্তন এলেও অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের অভাব প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, রাজশাহী সিটি করপোরেশন ও ঝিনাইদহের শৈলকুপা পৌরসভার ৮৯ শতাংশ পরিবার বিদ্যুৎ ব্যবহারে জীবনমান উন্নতির কথা জানালেও ৬৯ শতাংশ পরিবার আয় বৃদ্ধির তুলনায় বিলের অতিরিক্ত চাপ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। এছাড়া ৫৫ শতাংশ পরিবার বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতাকে খারাপ বা খুব খারাপ বলে উল্লেখ করেছে।