বিশেষ প্রতিবেদকঃ দীর্ঘ ২২ বছর ধরে গৃহকর্মী হিসেবে আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন, শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার এবং পরবর্তীতে ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগ তুলে প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কুমু বেগম (২৭)।
গতকাল বিকালে ঢাকার মিরপুর-১০ নম্বর এলাকার সেনপাড়া পর্বতার ৬ নম্বর রোডের ১৫ নম্বর বাড়িতে অবস্থিত ‘মিরপুর প্রেস ক্লাব’-এ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে এই অভিযোগগুলো তুলে ধরেন।
শৈশব থেকে গৃহবন্দি জীবনের অভিযোগ-
সংবাদ সম্মেলনে কুমু বেগম দাবি করেন, ছোটবেলায় পরিবারহীন হয়ে পড়ার পর ২০০৫ সালের দিকে মাত্র ৭ বছর বয়সে তাকে ঢাকার কাফরুল থানার উত্তর ইব্রাহিমপুর এলাকার মুন্সি বাড়ির বাসিন্দা মো: জাহাঙ্গীর লতিফ (৫০)-এর বাসায় গৃহপরিচারিকা হিসেবে নিয়ে আসা হয়।

তার অভিযোগ অনুযায়ী, শুরুতে স্বাভাবিকভাবে কাজ করালেও পরবর্তীতে তাকে দীর্ঘদিন ধরে বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করানো হয় এবং ধীরে ধীরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মাত্রা বাড়তে থাকে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, একপর্যায়ে গৃহকর্তা তার ওপর যৌন নির্যাতন চালান, যা ভয়ের কারণে দীর্ঘদিন প্রকাশ করতে পারেননি।
অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর লতিফ বর্তমানে নিজের উত্তর ইব্রাহিমপুর এলাকায় ৪০৫ নাম্বার বাড়িতে অবস্থান করছেন। এছাড়াও পাশেই তার আরেকটি ৬ তলা বিশিষ্ট বাড়িসহ আরোও অসংখ্য ফ্ল্যাট এবং প্লট রয়েছে।
আটক রাখা ও বাসা থেকে বিতাড়নের অভিযোগ-
ভুক্তভোগীর বক্তব্য অনুযায়ী, তাকে বহুবার বাসার ভেতরে আটকে রাখা হয় এবং এক পর্যায়ে তিন দিন পর্যন্ত তালাবদ্ধ অবস্থায় রাখা হয়েছিল বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
এছাড়া, বিয়ের বয়স হলে বিয়ের খরচ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও পরে তা না দিয়ে তাকে বাসা থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।
তার ভাষ্যমতে, ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই তাকে কোনো প্রকার অর্থ বা নিরাপত্তা ছাড়াই চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে একটি বাসে তুলে দেওয়া হয়।
পরিবারবিরোধী অভিযোগ-
সংবাদ সম্মেলনে কুমু বেগম আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর লতিফের স্ত্রী ও দুই কন্যা (বড় কন্যা জেবা রাইসা ও ছোট কন্যা দিয়া রাইসা) তার ওপর নির্যাতন ও মানসিক চাপ সৃষ্টি করতেন, যাতে তিনি বাসা ছাড়তে বাধ্য হন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

বকেয়া মজুরি ও ক্ষতিপূরণের দাবি-
ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে পাঠানো আইনি নোটিশে শ্রম আইনের আওতায় বকেয়া মজুরি ও প্রতিশ্রুত অর্থসহ মোট ৮ লাখ ৮৪ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে।
তার হিসাব অনুযায়ী, ১৯ বছরের বকেয়া বেতন (মাসিক ৩,০০০ টাকা হারে) ৬ লাখ ৮৪ হাজার টাকা এবং বিয়ের খরচ বাবদ প্রতিশ্রুত ২ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে।
আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি-
কুমু বেগম জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে তিনি প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ, নারী ও শিশু নির্যাতন, শ্রম আইন লঙ্ঘন এবং মানব পাচারসহ একাধিক ধারায় মামলা করবেন।
<p style="text-align: center;">প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ শিহাব উদ্দিন</p><p style="text-align: center;">ফোন নাম্বারঃ 01711475448</p><p style="text-align: center;">জিমেইলঃ Dainikbanglasomoy@gmail.com</p><p style="text-align: center; ">সম্পাদকীয়ঃ ৫১৬/2 ইসিবি চত্বর, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট। ঢাকা ১২০৬</p>
Copyright © 2025 All rights reserved